মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজরে

 

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে ১৯৩৯.৩৯ বর্গ কি: মি: স্থান জুড়ে বরিশাল বিভাগের অধীন বরগুনা জেলা অবস্থিত। যার ভূ-ভাগ সমতল কটাল পলল ভূমি নিয়ে বিসত্মৃত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এ এলাকার গড় উচ্চতা ৫ মিটারের মধ্যে। জোয়ার-ভাটা বরগুনা জেলায় একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। জেলার উত্তরে ঝালকাঠী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে পটুয়াখালী এবং পশ্চিমে বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলা। পায়রা (বুড়িশ্বর), বিষখালী, বলেশ্বর ও খাকদোন নদী এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। এ ছাড়া জেলাটি ছোট বড় অসংখ্য খাল-বিল দ্বারা পরিবেষ্টিত। বন্যা, টর্নেডো, সাইক্লোন,সিডর,আইলা,রোয়ানু, জলোচ্ছাস এর সাথে নদী ভাঙ্গন ও নদীতে পানির লবণাক্ততাসহ প্রচন্ড খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ অত্র জেলার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। ঝড়ের তোড়ে বঙ্গোপসাগরের লোনা পানি জেলার উপকুলীয় নিম্ন এলাকা প্লাবিত করে থাকে। বরগুনা জেলা কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের এইজেড-১৩ (Ganges Tidal Floodplain) এর অন্তর্ভূক্ত। জোয়ার-ভাটা এলাকা বিধায় বিভিন্ন মৌসুমে অনেক স্থানে ফসল আবাদ সম্ভব হয় না। বছরব্যাপী জোয়ারের পানিতে নিম্নভূমি ও বিল এলাকা মাঝারী গভীরতায় প্লাবিত হয়। এ জেলার পশ্চিমাংশের নদী-নালার পানি বছরের অধিকাংশ সময় লবণাক্ত (>৩ ডেসিসিমেন/মি:) থাকে। তবে বর্ষাকালে ৩ মাস (জুন-আগস্ট) লবণাক্ততার মাত্রা কমে যায়। পূর্বাংশে বর্ষাকালে নদী-নালা দিয়ে মিঠা পানি প্রবাহিত হলেও শুস্ক মেŠসুমে পানির লবণাক্ততা ১-২ ডেসিসিমেন/মি: থাকে যা সেচের জন্য তেমন উপযোগী নয়। উলেখ্য যে, পানির লবণাক্ততা ০.৭৫ ডেসিসিমেন/মিঃ পর্যন্ত তা সেচের জন্য নিরাপদ, ০.৭৫-১.৫০ ডেসিসিমেন/মিঃ পর্যন্ত ক্ষতিকর তবে তা সেচের জন্য অনুমোদিত এবং ১.৫০ ডেসিসিমেন/মিঃ এর অধিক লবণাক্ততা বিশিষ্ট পানি সেচের জন্য অযোগ্য।

এ জেলার অধিকাংশ কৃষি জমি পোল্ডার (বাঁধ) দ্বারা পরিবেষ্ঠিত থাকায় লবণাক্ততা মুক্ত। তবে কোন কোন সময় জোয়ারের পানি দ্বারা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেচের পানির স্বল্পতা, জমির মালিকানা (এলাকার সিংহভাগ জমির মালিক মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক কৃষক), প্রচলিত বর্গা প্রথা, পুঁজির অভাব এবং আমন ফসল দেরিতে কর্তন ও রবি মেŠসুমে (বর্ষার) পানি জমি থেকে অপসারণে বিলম্ব হওয়ার ফলে ফসল আবাদের নিবিড়তা আশানুরূপ নয়। এসব কারণে জেলায় রবি মেŠসুমে শতকরা প্রায় ২০ ভাগ জমি পতিত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারকরণের ফলে রবি মেŠসুমে বিভিন্ন সবজি, ফেলন, খেসারী, সরিষা, সূর্যমুখী, ভূট্টা, মুগ, চীনাবাদাম, মিষ্টিআলু, মরিচ, তরমুজ, বাঙ্গী, ক্ষীরা প্রভৃতির আবাদ ক্রমশঃ বৃদ্ধির ফলে ফসলের নিবিড়তা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter